একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তাহীন পূর্বহুড়া (পূর্বপাড়া) যুবসমাজ

কুমিল্লা নিউজ ডেস্ক।। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বছর খানেক আগে থেকেই বুড়িচং উপজেলার ৪নং ষোলনল ইউনিয়নের পূর্বহুড়া গ্রামের বিতর্কিত সর্দার দৌলত আহমেদ ধনুর সাথে স্থানীয় যুব সমাজের বিরোধ চলমান ছিল। নানা অনিয়ম আর মসজিদের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে কয়েকবার তাকে স্থানীয় যুব সমাজের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। ভান্ডারি ওরস কিংবা খানকা শরীফের নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাদাঁ আদায় করে এই বিতর্কিত সর্দার ধনু মিয়া।তাহার নানা অনিয়ম আর অসামাজিক কার্যক্রমের ফলে ধনুর সাথে যুব সমাজের বিরোধ চরমে উঠে। তাই অনিয়মের প্রতিবাদকারী যুব সমাজকে হেনস্থা করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কায়েম করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, এবং ষড়যন্ত্রের কৌশল হিসাবে তার আপন ভাতিজা মোস্তফা কামাল পারভেজ জাবেদ হোসেন মিঠুর সহযোগীতায় ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য আপলোড করে সেই দায়ভার যুব সমাজের উপর চাপিয়ে একের পর এক হামলা অব্যাহত রাখে।

 গত  ৯ই অক্টোবর ২০১৭ ইং রোজ সোমবার পূর্বহুড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত: কানু মিয়ার দুই ছেলে জনাব দৌলত আহমেদ ধনু অব: সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেন দুলাল এবং তাদের দুই সহযোগী লোকমান হোসেন পিতা: মৃত: আব্দুল আজিজ এবং আব্দুল হক পিতা মৃত: আব্দুল হামিদ কর্তৃক এলাকার জুলেখা বেগম স্বামী সফিকুর রহমান, হেলেনা বেগম স্বামী বাবুল মিয়া, আম্বিয়া বেগম স্বামী: মৃত আলী আহম্মদ, দেলোয়ার আহমেদ পিতা মৃত: চারু মিয়া সর্দার, শরীফুল ইসলাম পিতা: সেলিম মিয়া সহ এলাকার সালাম, সুমন, মাসুদ, সোহেল, জামাল, মকবুল সহ পুরো যুব সমাজের উপর আলাদা আলাদা ভাবে বর্বরচিত সন্ত্রাসী  হামলা চালানো হয়েছে, পরের দিন একই ভাবে পুরুষশূন্য বাড়িতে হামলা চালাতে গেলে বাড়ির মহিলারা একত্রিত হয়ে তাদেরকে ঝাড়পিটা করে তাড়িয়ে দেয়, সেই ঝাড়পিটার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে ধনু তার ভাই দুলাল। তাই  শুধু মাত্র হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে বিচার আবেদন করে, বিষয়টি আমলে নিয়ে জনাব বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যান (সাবেক) দ্বিপাক্ষিক সমযোতার জন্য এলাকাবাসীকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন এবং বিষয়টি আংশিক সমাধান করেন এবং সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি নেক্কারজনক বিধায় ভোক্তভোগীদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদেরকে বাড়িতে গিয়ে সাত্বনা দিয়ে বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে জনাব দৌলত আহমেদ ধনু তার ভাই সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সাবেক চেয়ারম্যানের এই যৌথ রায়কে দাম্ভিকতার সাথে অমান্য করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার যুব সমাজ সহ সাবেক চেয়ারম্যানকে গালাগালি করে যা অডিও বার্তা শুনে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টিকে ঘিরে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে এলাকার যুব সমাজ তাদের পরিবার পরিজনেরা।

 চলমান অস্থিরতা নিরসনে বিষয়টি মীমাংসার জন্য এলাকার সর্ব গ্রহনযোগ্য বিশিষ্ট সমাজ সেবক অব: সার্জেন্ট মো: আবু তাহের দায়িত্ব নেন, তিনিও সাবেক চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর যৌথ রায়কে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পরামর্শ দেন কিন্তু ওনার কথায় কর্ণপাত না করে যুব সমাজের উপর একের পর এক হামলা অব্যাহত থাকে, অবশেষে কোন উপায় না দেখে বাধ্য হয়েই গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখে যুব সমাজের উদ্যোগে ১৬/১৭ জনের একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট সমাজের সন্মানিত গ্রহনযোগ্য কিছুসংখ্যক ব্যাক্তিবর্গের নিকট লিখিত ভাবে বিচার  প্রাপ্তির আবেদন করে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানীয় মেম্বার জনাব মাইনুদ্দিন মনির, পূর্বহুড়া গ্রামের মনির মাষ্টার, কাদের মাষ্টার, ফরিদ উদ্দিন দারোগা, কাহেতরার ছন্দুমিয়া,পূর্বহুড়া বাজার কমিটির জনাব, খোরশেদ ডাক্তার এবং রামনাগরের শাহীন কবীর অন্যতম, উক্ত বিচার আবেদনের বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখে আবদুছ সালাম, শরীফ, মকবুল, সোহেল, রবিন, সৈকত, সহ আরো অনেকে বিজয় র‌্যালিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আব্দুল হকের দোকানের সামনে পৌছঁলে অব: সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেন দুলাল তার ভাই দৌলত আহমেদ ধনুর নির্দেশে সেখানে ওৎ পেতে থাকা দোকানদার আব্দুল হক, লোকমান হোসেন, পারভেজ, মোবারক তার স্ত্রী  সহ একত্রে

 উল্লেখিত ব্যাক্তিদের উপর পুনরায় নতুন করে বর্বরচিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়, পরে পার্শ্ববর্তী দোকানদার কামাল এলাকাবাসীর সহযোগীতায় উক্ত হামলা হতে কোনমতে উদ্ধার হয়ে ওনারা কুমিল্লা - সংসদীয় আসনের মাননীয় এমপি জনাব বাহা উদ্দিন বাহার ভাইয়ের নেতৃত্বে কুমিল্লা টাউন হল অভিমুখে বিজয় র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন। উক্ত হামলার ভিডিও অডিও রেকর্ড হতে উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া গিয়াছে।

 বিভিন্ন হুমকি ধামকি তোপের মুখে পড়ে যুব সমাজের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছে। সরেজমিনে খবর নিয়ে জানা যায় জনাব লোকমান হোসেন অবৈধ গাজাঁ বিক্রয় সেবনকারী হিসাবে অনেক আগেই স্থানীয়দেও কাছে পরিচিত, পাশাপাশি এলাকার মুদি দোকানদার আব্দুল হক চিকিৎসা বিদ্যায় কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন ছাড়াই দোকানে বসেই চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন এবং ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে ঔষধ বিতরন বিক্রয় করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে, বিষয় দুটি ঝুকিপূর্ন বিধায় অবৈধ এইসব ব্যাবসা বন্ধে স্থানীয় যুব সমাজ প্রতিবাদী হয়ে উঠে, ফলে বিতর্কিত এই প্রভাবশালীরা যুব সমাজের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাক্তির পরিবারকে বিচার বানচালে ভয় ভীতি চাপ প্রয়োগ করে আসছে বলে অভিযোগ আছে, বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বার জনাব মাইনুদ্দিন মনির বিষয়টি নিষ্পত্তিতে মধ্যস্ততা করছেন বলে জানিয়েছেন।

কুমিল্লা নিউজ টুয়েন্টিফোর/জেনিফার পলি/২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

 

Last modified on 24-12-2017 08:02:38 PM

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
নূরুল আমিন জহির
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com