কৃষিবন্ধু মতিন সৈকত ২১ বছর মৌসুমব্যাপি ২০০ টাকা বিঘাপ্রতি বোরোধানে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছেন

কুমিল্লানিউজডেক্স।। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের কৃষকবন্ধু মতিন সৈকত। পৌষ থেকে বৈশাখ পাঁচ মাস। বোরোধানের চারা রোপন থেকে পাকাধান কাটা পর্যন্ত। যার যতোবার সেচের পানি প্রয়োজন, ততোবার সেচের পানি সরবরাহ করে আসছেন। সর্বসাকুল্যে মৌসুমব্যাপি মাত্র ২০০টাকা বিঘাপ্রতি। মতিন সৈকত একটানা ২১ বছর মৌসুমব্যাপি মাত্র ২০০ টাকা বিঘাপ্রতি ১৫০ বিঘা বোরোধানের জমিনে সেচ সুবিধা দিয়ে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সারাদেশে বোরোধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা সেচ খরচ দিতে হয় কৃষকদের। অথবা চারভাগের এক ভাগ ধান কেটে নিয়ে যায় সেচ প্রকল্পের মালিকরা। সবখানে যখন উচ্চমূল্যে সেচের খরচ দিতে হয়। সেখানে প্রায় বিনামূল্যে মতিন সৈকত মাত্র ২০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ সুবিধা ২১ বছর দিয়ে আসছেন। তাকে নিয়ে বিটিভির মাটি মানুষের উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী ২০১৪ সালেমাঠের রাজাডকুমেন্টারী করেন।কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আদম পুর গ্রাম। এই গ্রামে একটি অসাধারন ঘটনা ঘটছে গত ১৭ বছর ধরে। যেটির খবর আমরা অনেকেই জানি। অনেকেই জানিনা। অসাধারন ঘটনাটি হচ্ছে রকম যে খুব কমূল্যে সেচ প্রদানের ঘটনা। আমরা জানি যে যখন নীলকরেরা ছিলো, তখন একরকমের নির্যাতন ছিলো। যখন কৃষি যন্ত্রপাতি এসেছে তখন আরেকধরনের নির্যাতন এসেছে কৃষকদের উপর। বলা চলে যে, নীলকরের পরিবর্তে অনেক জায়গায় সেচ কর দিতে হচ্ছে। কৃষকদের ফসলের তিনভাগের একভাগ বা চারভাগের একভাগ এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃষক ভাইয়েরা ফসলের সেচের খরচ যোগাতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গে যখন সেরকম ব্যবস্থা কিংবা দক্ষিণ বঙ্গে সেরকম অবস্থা। তখন যে আদমপুর গ্রামে অন্য রকম ঘটনা। এখানকার একজন কৃষক। তাকে মানুষ জন কৃষকবন্ধু মতিন সৈকত বলেন।  তিনি মাত্র ২০০ টাকায় সেচ সুবিধা প্রবর্তন করেছেন। গত ১৭ বছর ধরে এই ধারাকে বজায় রাখছেন।কৃষি উন্নয়ন সেচ ব্যবস্থাপনা, খাল-নদী পূনঃখনন প্রচেষ্টা, পরিবেশ উন্নয়ন, ৪০০র বেশি পাখি উদ্ধার, জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ, বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদানের জন্য তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুইবার ২০১০ এবং ২০১৭ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদান করেন। কৃষি মন্ত্রনালয়ের প্রকাশিত স্বারক গ্রন্থে তার সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত উল্লেখ করেন।জনাব মতিন সৈকতের উদ্ভাবিত স্পল্পমূল্যের সেচ প্রযুক্তি স্থানীয় জনসাধারনকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি কৃষি মাছ চাষে সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। ছাড়া বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ২০ বছর যাবৎ সেচ সুবিধা প্রদান করে আসছেন। নিরাপদ বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর বালাইনাশক বর্জন এবং জমিতে জেব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষককে উৎসাহিত করেছেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৫৪ টি আইপিএম আইসিএম ক্লাবকে সংগঠিত করে রাসায়নিক সার বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষতির দিক নিয়ে আলোচনা এবং জৈব প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এছাড়া নিজস্ব নার্সারীর মাধ্যমে চারা উৎপাদন, মৎস্য চাষ সম্প্রাসরণ বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। স্বল্প ব্যয়ের সেচ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জেবসার জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বদ্বকরণ এবং বৃক্ষরোপন কার্যক্রমে অন্যন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এম মতিন (মতিন সৈকত) কে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ প্রদান করা হলো।কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সনদে উল্লেখ করেন।স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশ গড়ার অব্যাহত সংগ্রামে গৌরবময় কৃতিত্বপূণৃ অবদানের স্বীকৃতি সরূপ আপনাকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে ভূষিত করো হলো।১৪১৫ বঙ্গাব্দে মতিন সৈকত প্রথমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক গ্রহনের সময় তৎকালিন কৃষি সচিব তার সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপন করেন।জনাব, এম, মতিন (মতিন সৈকত) ২০০০ সন থেকে কৃষি মৎস্য আইপিএম বিষয়ক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তিনি নিজ উদ্যোগে নদী খনন, ড্রেনেজ নির্মান, কচুরীপানা পরিস্কার এবং ১৫৪ টি আইপিএম আইসিএম ক্লাবকে সংগঠিত করার মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারন ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তার এসব কার্মকান্ড নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করছে। জনাব এম মতিন এর পরিবেশ বান্ধব কর্মকান্ডের জন্য এলাকার জনগনের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্প্রসারনের স্বীকৃতি স্বরূপ জনাব এম মতিন কে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৫ প্রদান করা হলো।পুরস্কার প্রদানের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিন সৈকতকে বলেন: ‘তোমার সৃষ্টিশলি কর্মকান্ডের জন্য অভিনন্দন। আমাদের দেশের সবকটি নদী পূনঃখনন প্রয়োজন।

-কুমিল্লানিউজডেক্স/সম্পাদনা/জেনিফার পলি / ১৭ এপ্রিল ইং

 

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com