মৎস খামাড়ে বিষ প্রয়োগ, ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি । অসহায় খামাড়ির আর্তনাদ।

মনোহরগঞ্জ   তৌহিদ তপু, নিউজ ডেক্স।। 29-05-2017 12:00:00 AM font size decrease font size increase font size
পুকুর পরিদর্শন করছেন পুলিশ, ভেসে উঠা মরে যাওয়া  মাছ(নীচে) পুকুর পরিদর্শন করছেন পুলিশ, ভেসে উঠা মরে যাওয়া মাছ(নীচে) ছবি : তৌহিদ তপু।।

      তৌহিদ তপু।।     কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার চড্ডা এলাকার লালন মস খামড়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন সহ প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবনের সকল পূজি এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছিলেন লুফুর রহমান লালন । কিন্তু এখন সব হারিয়ে হতভম্ব তিনি। সকল ভাষাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন।  দুই ছেলে এক মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে অসহায় লালনকে দেখা যায় পুকুরে ভেসে উঠা মারা যাওয়া মাছগুলোর দিকে অশ্রুসিক্ত চোখে চেয়ে আছেন।  লালন মস খামড়ের মালিক লুফুর রহমান লালন জানায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি এলাকার একটি পুকুর ৫ বছরের জন্য লীজ নেন। তিনি তার পার্টানার হিসেবে দীশাবন্দ এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে সেলিম ও একই গ্রামের রিপনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যাবসায়ে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু আরও কিছু টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা দিতে পারে নাই তখন লালন সিদ্ধান্ত নেয় তাদের দেয়া ৯০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিবে। এজন্য লালন সময় চায় কিন্তু সময়ের আগেই তারা লালনকে মারধর করে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। গত রাতে চড্ডা এলাকার পাশের গ্রামের এক চাকুরিজীবি জসিম(৩৫) বাড়ি ফিরার সময় লালনের প্রজেক্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেলিম ও রিপনের বাহিনীকে রাসাতা ছাড়ার জন্য বললে তাকে মারধর করা হয়। তার চোখের ফোলা অংশ দেখিয়ে জসিম জানায়, আমি প্রজেক্টের ঝামেলার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি বাড়ি ফিরছিলাম তারা আমাকে মেরেছে।পরে সকলে আমাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমি এই গ্রামেরও লোক না, এই খামাড়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। চড্ডা এলাকার প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গির বলেন, বিষ প্রয়োগে শুধু লালনের ক্ষতি হয়নি, এলাকাবাসীর ও ক্ষতি হয়েছে। রমজান মাস এসেছে, আমরা লালনের এই প্রজেক্টের মাছ ও সবজি সহজে ও কমদামে কিনে খেতে পারতাম। এ ঘটনাগুলো দেশের উন্নয়নকে  বাধাগ্রস্ত করছে।

 

মনোহর গঞ্জের ১নং বাইশগাও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর বিএস সি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টিকে নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার বিচারে যা যা করা প্রয়োজন আমি তা করব।

 

এছাড়াও ঘটনা স্থলে অভিযুক্তদের পুলিশের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে দেখা যায়। সেলিম ও রিপনের বন্ধু সাইফুল তদন্ত চলাকালিন পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। সুমন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে নিজেকে দাবী করে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ মুলক কাজ চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যাবসা করছে বলে এলাকাবাসী জানায়। বিষয়টি মনোহর গঞ্জ থানার ওসি মো: সামসুজ্জামানকে   জানালে তিনি বলেন, এবিষয়ে তদন্ত করে আইন আনুগ ব্যাবস্থা নিব। বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমি আমার অফিসারকে ওই প্রজেক্টে তদন্ত  করার জন্য পাঠিয়েছি। তদন্তের পর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

খামাড়ের মালিক লালন জানায়, যত দ্রুত সম্ভব আমি এর বিচার চাই। আ্‌ইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেন কোন প্রকার রাজনৈতিক চাপে পড়ে অবিচার না করে এর জন্য তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

 

আইনটির সর্বশেষ সংশোধন ও নতুন কটি ধারা ২০১৪ সালে সংযোজিত হয় যা ১০জুন, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। মস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ সংশোধনীসহ মোট ১৮টি ধারা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে যা সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নেবর্ণিত হলো- 

ধারা-১ ঃ  সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন ঃ এই আইন মস সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ নামে অভিহিত হবে এবং ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রয়োগ হবে। আইনটি ঢাকা গেজেট প্রকাশের তারিখ হতে কার্যকর হবে। 
ধারা-২ ঃ  সংজ্ঞা ঃ (গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাসমূহ)ঃ
ধারা-৩ ঃ  বিধিনিষেধ ঃ (বিষ দিয়ে, বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে, বাঁধ দিয়ে, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে, পুকুর শুকিয়ে মাছ ধরা নিষেধ)
ধারা-৪ ঃ বিধিনিষেধের ক্ষমতা (২৩ সেমি-এর নীচে রুই জাতীয় মাছ, ২৫ সেমি-এর নীচে জাটকা, ৪.৫ সেমি-এর নীচের মেস সাইজের জাল) ধারা-৫ ঃ দন্ডঃ (আইন অমান্যকারী ১ বছর হতে ২ বছর পর্যন্ত জেল বা ৫০০০/-টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন) 
ধারা-৬ ঃ এই আইনের অপরাধের জন্য গ্রেফতারের ক্ষমতাঃ
ধারা-৭ ঃ অপরাধসমূহ আমলে নেওয়া ও বিচার ঃ
ধারা-৮ ঃ আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ঃ (কর্মকর্তাগন সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন)
ধারা-৯ ঃ (১৮৯৭ সনের ৪নং আইন বাতিল)
ধারা-১০ ঃ জব্দকৃত মালামাল বিনষ্ট (জব্দকৃত মালামাল অকশন / পুড়িয়ে বিনষ্ট/ আটককৃত মাছ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ)।
ধারা-১১ ঃ Prohibition of catching ,carrying, transportation, offering, exposing or prossessing of Frogs.
ধারা-১২ ঃ কারেন্ট জাল-এর ব্যবহার নিষিদ্ধকরণঃ 
ধারা-১৩ ঃ Catching of all kinds of Fishes prohibited in certain period in Particular areas.
ধারা-১৪ ঃ Catching of Fish prohibited in certain period in some parts of Halda River.
ধারা-১৫ ঃ আইনের সুরক্ষা। 
ধারা-১৬ ঃ  Fish Piranha group Prohibited : No person shall import, breed, culture, carry, sell, receive  or take, market, expose and process any species of Fish Piranha group.
ধারা-১৭ ঃ  Destruction or any attempt to destroy fishery by drying or dewatering of any fishery Prohibited.
ধারা-১৮ ঃ  Fish Clarias gariepinus  prohibited : No person shall import, breed, culture, carry, sell, receive or take, market, stock, expose and process of Fish Clarias gariepinus (Local name–African Magur)
স্য হ্যাচারি আইন, ২০১০
Fish Hatchery Act, 2010
বর্তমান সরকার দেশে মস্যসম্পদের কাঙ্খিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুণগতমান সম্পন্ন রেণু , চিংড়ির পোষ্ট লার্ভি ও মানসম্মত পোনা উপাদনের নিমিত্তে যথাযথভাবে মস্য ও চিংড়ি হ্যাচারি  স্থাপন ও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং এতদসংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক বিষয়সমূহ সম্পর্কে বিধিবিধান প্রণয়নকল্পে ২০১০ সালের ১৪ নং আইনটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয় যা সর্বসম্মতভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় এবং মস্য হ্যাচারি  আইনটি ১৮ মার্চ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ও একই তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে তা প্রকাশিত হয়। মস্য হ্যাচারি  আইন, ২০১০ এ মোট ২৬টি ধারা অন্তর্ভূক্ত আছে এবং আইনটি মস্য হ্যাচারি বিধিমালা,২০১১ দ্বারা পরিচালিত হবে।

 

এই আইন অমান্যকারীর বিচার:-

কোনো ব্যক্তি ধারা ৫,,, এবং ৯ এর বিধান লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনুরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনুর্ধ্ব ১ (এক) বসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ন্যূনতম ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা হতে সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০/-( পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
(
২) নিবন্ধনকৃত হ্যাচারি র মালিক বা হ্যাচারি  পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট  ব্যক্তি এই আইনের ধারা ৫,,৭ এবং ৯ ব্যতীত অন্য কোনো ধারা বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি লঙ্ঘন করলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন ২৫,০০০/-(পঁচিশ হাজার) টাকা হতে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা আর্থিক জরিমানা করতে পারবেন।
ধারা- ২১ ঃ   অপরাধের আমল যোগ্যতা ও জামিন যোগ্যতা ঃ এই আইনের অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non Cognizable)  ও জামিন যোগ্য (Bailable)
ধারা - ২২ ঃ  ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অপরাধের বিচার্য ঃ এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হবে। সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত  পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং ফৌজদারী কার্যবিধি প্রয়োগ হবে (তদন্ত, বিচার ও আপীল)।
ধারা ২৪ ঃ  অর্থ দন্ড  আরোপের ক্ষেত্রে  ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা ঃ দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই আইনে অনুমোদিত যে কোনো দন্ড আরোপ               করতে পারবে।
ধারা-২৫ ঃ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ঃ সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। 
ধারা-২৬ ঃ ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ ঃ এই আইন কার্যকরী হবার পর সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের  ইংরেজি অনুদিত একটি পাঠ প্রকাশ করবে যা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজি পাঠ নামে অভিহিত হবে।   

 

কুমিল্লা ডেক্স।।  

Comillanews24.com/পপি আক্তার/নিউজ এডিটর/২৯ মে ২০১৭

 

 

 

ফেসবুক পেইজে লাইক, সেয়ার ও কমেন্ট করে কুমিল্লার সকল নিউজ সবার আগে জানুন। ধন্যবাদ।

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
নূরুল আমিন জহির
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com