নানা সমস্যায় জর্জরিত মনোহরগঞ্জ দারুল উলুম কেরামতিয়া আলিম মাদ্রাসা

মো: এমদাদুল হক রনি ।। মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ দারুল উলুম কেরামতিয়া মাদ্রাসাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিষ্ঠানটির সামনে পুকুর পিছনে খাল। মাঝে একটি টিনশেড ঘরে ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। জরাজীর্ণ এ টিনশেড ঘরটি যে কোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র সংকটে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে এসেও প্রতিষ্ঠানটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। উপজেলায় জেডিসি, দাখিল ও আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠানেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডাকাতিয়ার শাখা ঘাঘরিয়া খালের তীরেই বিদ্যাপিঠটির অবস্থান। এর সামনে একটি পুকুর ও মসজিদ। ১৯৭৮ সালের ৫ জানুয়ারি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টিনশেড ঘরটিতে শুরু হয় পাঠদান কার্যক্রম।

প্রায় ৪০ বছরে অন্তত ২৫ বার মেরামতে টিনশেড ঘরটি পরিনত হয়েছে জরাজীর্ণে। তবুও থেমে নেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। ১৯৭৯ সালে মাদ্রাসাটি দাখিল স্তরে বোর্ড স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি হয় এর এমপিওভুক্তি। ১৯৯৭ সালে মাদ্রাসাটি আলিম স্তরে বোর্ড স্বীকৃতি পায়। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে হয় এর এমপিওভুক্তি। দীর্ঘ ৪০ বছর প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ সাফল্যসহ অত্যন্ত সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসলেও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এদিকে শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র সংকটে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপিঠে কোনো খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বিনোদন, খেলাধুলা শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকে। মেয়েদের কমনরুম না থাকায় তাদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। বারান্দায় দাঁড়িয়েই কাটে তাদের বিরতি বা অবসর সময়। মাদ্রাসার সামনে পুকুর ও উপজেলার কেন্দ্রীয় মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় বিশেষ করে জোহরের নামাজের সময় মেয়েদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা সবদিক থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন জানান, উপজেলা সদরে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে অবকাঠামোগত পরিবর্তন খুবই জরুরি। এ প্রতিষ্ঠানটিতেই জেডিসি, দাখিল ও আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গোটা উপজেলার আলিম পরীক্ষার একমাত্র কেন্দ্র এটি। বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে বরাদ্দ সাপেক্ষে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।

অধ্যক্ষ মাওলানা জিন্নত আলী জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো অপ্রতুল। দিনে দিনে ছাত্রছাত্রী বৃদ্ধির ফলে সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র না থাকায় মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে।

- ০৭সেপ্টেম্বর;২০১৭/এমদাদুল হক রনি/কুমিল্লা নিউজ ২৪

 

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
নূরুল আমিন জহির
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com