বিজয় দিবসে চাই চেতনার বিপ্লব

কুমিল্লা নিউজ ডেস্ক।। এখন ডিসেম্বর। আমাদের বিজয়ের মাস। পরাক্রমশালী পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনী, মিত্রবাহিনী এবং জনগণের সহযোগিতায় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর দেশকে শত্রুমুক্ত করে আমরা বিজয় অর্জন করি

 

পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র, যার অমোঘ স্রষ্টা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

 

৪৭ বছর হল দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, এত বছরেও তার সে স্বপ্ন কি পূরণ হয়েছে? আমরা হয়তো বহির্গতভাবে অনেক কিছুই অর্জন করেছি, কিন্তু মানুষের জীবন যদি স্বপ্নের আঁধারে তার আকাক্সক্ষা পূরণের গৌরবে মহিমান্বিত না হয়, তা হলে বাইরের সব অর্জনই ম্লান হয়ে যায়

 

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার কূট ষড়যন্ত্রের ফলে ২১ বছর বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ প্রায় অবরুদ্ধ ছিল। তারই ধারাবাহিকতা এখনও অনেকাংশেই অব্যাহত আছে

 

সম্পদ বণ্টনের ভারসাম্যহীনতার ফলে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রার্থিত লক্ষ্যে এখনও পৌঁছতে পারেনি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ প্রভৃতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এগুলো শুভ লক্ষণ হতে পারে না। সন্দেহ নেই, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকারকে নানাভাবে বিব্রত ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য দেশীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে

 

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন একটি অ্যানালগ দেশকে ডিজিটাল দেশে পরিণত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, পৃথিবীর শক্তিধর এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো প্রায় অসম্ভব বৃহৎ এক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সমাপ্ত করতে চলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সংকট মোকবেলায় নিজের সব শক্তি দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদাকে শিখরস্পর্শী করে তুলেছেন, তখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি তাকে ব্যর্থতার চোরাবালিতে ডুবিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য এক দিকনির্দেশক আলোকবর্তিকা হয়ে গোটা জাতিকে গৌরবের অংশীদার করতে পেরেছে

 

এই অর্জনকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তিকে মনে রাখতে হবে, মানুষের চেতনার বিপ্লব সম্পন্ন করতে না পারলে প্রকৃত অর্থে এই অর্জনের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই একটি সচেতন সংস্কৃতিমনস্ক জাতি তৈরির ওপর সর্বাগ্রে জোর দিতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক মানদণ্ডে উন্নয়নের বিচার করতে গেলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী

 

ক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারতেন, তাদের অধিকাংশই এখন ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে। তাদের চোখ-মুখ বন্ধ, তাদের হাত নিশ্চল, তাদের কান বধির এবং তাদের বিবেক বন্দি। এটা জাতির জীবনে ভয়াবহ অশনিসঙ্কেত। এই বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে দরকার তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনা করা। তা না হলে আমাদের বিজয় দিবস, আমাদের স্বাধীনতার ফসল আমরা কখনই ঘরে তুলতে পারব না

 

জাতি হিসেবে এই আত্মঘাতী ভূমিকায় আমরা অবতীর্ণ হতে পারি কিনা, আজ তা সবাইকে ভেবে দেখতে হবে। আর তা হলেই বহু রক্ত সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আমাদের বিজয়ের মাসের গৌরবময় অর্জন সার্থকতা লাভ করবে। আমরা জাতি হিসেবে বিশ্বসিংহাসনে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত হতে পারব। বিজয়ের মাসে আমাদের এই অঙ্গীকারই কেবল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়কে স্থায়ী মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে পারে। এর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না!

 

কুমিল্লা নিউজ টুয়েন্টিফোর/নিজাম আহমেদ/০২ডিসেম্বর ২০১৭

 

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
নূরুল আমিন জহির
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com