“মা” তুমি যে সত্যি-ই নেই

মতামত   মোঃ এনামুল হক রাব্বী, বাংলাদেশ পুলিশ, কুমিল্লা জেলা। 12-05-2017 12:00:00 AM font size decrease font size increase font size


আম্মা কেমন আছো তুমি ?? ভালো আছো নিশ্চয় ?? আমার কথা মনে আছে তোমার বা মনে পড়ে ?? আমার কিন্তু তোমার কথা মনে পড়ে বিষণ মনে পড়ে তুমি ভাবতে পারবে না আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি।
আম্মা মারা যাওয়ার পর আমার পাড়ার চাচাতো ভাই বাপ্পুর সাথে-ই আমার সখ্যতা ছিলো বেশি ওর সাথে খেলতাম সময় কাটাতাম। যখন খেলতাম তখন তর মা ডাকতো খাবার খাওয়ার জন্য আর আমি কেঁদে বুক বাসাতাম আর ভাবতাম আমার মা থাকলেওতো খাবার খাওয়ার জন্য বলতো আর এখন অফিসে পাশের বন্ধুটি যখন ফোন করে ওর মায়ের সাথে কথা বলে। জানতে চায় কেমন আছো মা? বন্ধুটির মাথা থেকে পুকুর পাড়ের কমলালেবু কিংবা দখিনের আমলকী গাছের স্মৃতি মুছে যায় নি শুনে আমার ভেতরে বিষাদের ফনা তির তির করে বাড়তে থাকে। প্রতি উত্তরে ওর মা জানতে চান, কেমন বাবা আছিস বাবা? ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করছিস তো! শরীরের প্রতি যতœ নিস।
আমার ভেতরে ভাংচুর হয়! আমি যেনও হারিয়ে খুঁজছি সেই প্রিয় মুখ। সেই কথাগুলো -বাড়ি আয় বাপ,উঠোনে ফুটা শিউলি ফুলের ঘ্রাণ শুঁকে নে! কিন্তু আমি যেতে পারি না কারন আমার তুমি তো আর নেই মা।
তবে তুমি এইটা মনে করোনা তোমাকে আমি ভুলে গেছি আমি তোমাকে ঠিকই মনে করি আগে ছোট বেলায় যখন স্কুলে যেতাম তখন দেখতাম সবার মা তাদের সন্তান কে কত আদর করে, কত কিছু কিনে দেয় কত আবদার রাখে, কোলে তুলে নিয়ে কপালে চুমু দেয়, আমি এই সব দৃশ্য গুলো শুধু তাকিয়ে দেখতাম তারপর রেজাল্টের দিনে সবার মা আসতো শুধু আমি ক্লাসে একমাত্র ছেলে ছিলাম যার কেউ আসতো না।
আমি পাশ করেছি দেখলে তুমি খুশী হয়ে আমাকে আদর করতে না ??
আমাকে কোলে নিয়ে কপালে চুমু খেতে না বলো ? আমাকে চকলেট কিনে দিতে না ?
এই ভাবে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যেতাম আমি, আবার অনেক অনেক রাত জেগে পার করে দিতাম ,
তুমি থাকলে কি করতে আমি তোমার সাথে কি কি করতাম?
তুমি আমাকে দুষ্টামি করার জন্য মারতে নাকি আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে নাকি,
এই রকম অনেককিছু ভাবতে ভাবতে................
কিন্তু মাঝে মাঝে সমস্যা হয় তোমার সাথে কথা বলতে মেঘে ঢেকে যাই তখন তোমাকে পাইনা কালরাতে তোমাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি মেঘে ঢেকে ছিলো সারারাত তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি খুঁজে পাইনি তোমায়,তাই বাধ্য হয়ে লিখতে বসলামৃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা অনেক, তবে একটা অভিমান তোমার উপর আছে সেটা হল, তুমি আমাকে পরিপূর্ণভাবে মা ডাকার সুযোগ দাওনি, তুমি চলে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত আমি মা এই মধুর ডাকটা ডাকতে পারিনি,আর একটা অভিমান আছে তোমার জন্য মানুষ আমাকে করুনার চোখে দেখে এই জিনিসটা আমার অনেক বিরক্ত আর কষ্ট দেয় ।
মা, চিরদিনের জন্য গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও আমার মোটেও ঘুম হয় না। জেগে থাকাও আমার কাছে এক গভীর দুঃস্বপ্ন। অচেনা পথ-অচেনা ক্ষতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনাকাঙ্খিত রুটিন পাহারা দিচ্ছি আর দিন দিনে নিজের কাছে বড়ো বেশি অচেনা হয়ে যাচ্ছি। অচেনা আমার অনেক গল্প জমে জমে আজ পাথর। সেইসব পাথর ভেঙে ভেঙে তোমাকে শুনাতে চাই সবকটি গল্প। বলে যেতে চাই সব, যে কথার অনুবাদ তুমি ছাড়া কেউ জানে না।
ছোটবেলায় যখন বুঝে-না বুঝে বাজে কোনো অন্যায় করে ফেলতাম, মা এসে দুমদুম করে দুই-চার ঘা লাগিয়ে দিতেন। ব্যস ফুরিয়ে যেত। কিন্তু ভেতরটা ফালাফালা হয়ে যেত যখন মা কোনো কিছু না বলে গম্ভীর মুখে ঘুরে বেড়াতেন, দূরে দূরে থাকতেন, কাছে ঘেঁষতে চাইলেও পাত্তা দিতেন না। বুঝতে পারতাম যে এবারের অপরাধটা মায়ের সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেছে, মাকে হয়তো খুব আঘাত দিয়ে ফেলেছি। মা কষ্ট পাচ্ছেন আমার জন্য এ কথা মনে এলেই বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যেত। আঁচল ধরে মায়ের পেছনে পেছনে ঘুরতাম, ঘ্যান ঘ্যান করে মাফ চাইতাম...মা ও মা আর করবো না, মাফ করে দাও, সত্যি বলছি আর ভুল হবে না কোনোদিন। অভিমান অল্প হলে মা মাফ করে দিতেন, কোলে তুলে নিতেন, আমি আবার নিশ্চিন্ত হয়ে উড়ে যেতাম খেলার সাথীদের মাঝে। অভিমান খুব কড়া হলে, মা তখনও মুখ ফিরিয়ে থাকতেন, দু’একবার ঝাঁকুনি দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিতেন। আমিও নাছোড়বান্দার মতো মায়ের পিছুপিছু যেতাম রান্নাঘরে, কলপাড়ে, মা যেদিকে যেতেন সেদিকেই। মনে পড়ে একদিন পাড়ার সবার সাথে কুকুরের বাচ্চা দেখতে গেছি আর কুকুর দিছে কামড় একথা মা শুনে আমার কাছে এসে প্রচন্ড এক চড় বসালেন আমার গালে বললেন “গেলি ক্যান”। ভেবেছিলাম শাস্তি হয়ে গেছে, আবার চলে যাই দুষ্টুমি করতে। মাকে খুব বিরক্ত করতাম এক পর্যায়ে অসহ্য হয়ে মা বলে ওঠতেন, ‘ কাকে মা ডাকিস তুই? তোর কোনো মা নেই। তোর মা মরে গেছে। আর কোনোদিন আমাকে মা ডাকবি না।’ আমার মা নাই, আমার মা মরে গেছে—সেই কথাটা আমার কচি বুকে একটা প্রলয় ঘটিয়ে দিল।
মনে পড়ে পেয়ারা গাছের নিচে হাত-পা ছড়িয়ে, গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদে ছিলাম সেই দিন। কান্নার আওয়াজে পাড়া-প্রতিবেশীরা চলে আসেন, কিন্তু মায়ের অভিমান ভাঙতে ভাঙতে সেই সন্ধ্যা।
আজ এত বছর পরে আবার সেইভাবে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছা করছে কারন মা তুমি তো সত্তি সত্তি-ই নেই।

বিঃদ্রঃ আমার আম্মা ১৯৯৭ সালে মারা গেছেন যখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি।
(আমার জীবনের কথাগুলো কারো সাথে মিলে গেলে কিন্তু আমি দায়ী না কাঁদবেন না বলে দিলাম)।

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
নূরুল আমিন জহির
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com