বাফুফেতে ডিডো-দর্দেভিচ ‘ভূত’!

কুমিল্লানিউজডেক্স।। দুজনেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বাফুফের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে বেশি দিন জাতীয় দলের কোচ থাকতে পারেননি। একজন ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা ডিডো। অন্যজন সার্বিয়ান জোরান দর্দেভিচ।  দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখনো তারা বাংলাদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি! তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কোচের পদ ছাড়লেও এখনও স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে ফেরার। আবারো বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী এই দুই কোচ!আর এই কারণেই হঠাৎ হঠাৎ বাফুফেতে ফোন করে চলেছেন দুজন। বায়োডাটা পাঠিয়ে আবেদনও করেছেন। বাফুফেতে যেন পুরণোভূতহিসেবেই আবির্ভুত হয়েছেন সাবেক এই দুই কোচ

তবে যেই তিক্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে দুজনকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আবারো দায়িত্ব পাওয়াটা তাদের জন্য বেশ কঠিনই। কেননা দুজনকে সামলাতে বাফুফেকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তাই নতুন করে সেই যন্ত্রণা আর নিতে চায় না বাফুফে

২০০৯ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের আগে ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা বাংলাদেশের কোচ হয়ে এসেছিলেন। ঢাকার মাঠে গ্রুপ পর্বে রানার্সআপ করে দলকে চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ঢাকার সাফ ফুটবলেও তার থাকার কথা ছিল। কিন্তু আটজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে জন্ম দেন বিতর্কের।  এর জেরে সাফের আগেই তাকে বরখাস্ত করে বাফুফে।  নিয়ে হট্টগোলও কম হয়নি। ঢাকা ছাড়ার আগে বাফুফের বিষোদগার করতেও ছাড়েননি

ডিডোর পর এসএ গেমসের জন্য আসেন সার্বিয়ান জোরান দর্দেভিচ। একটু পাগলাটে স্বভাবের কোচ হলেও ফুটবলারদের দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারার ক্ষমতা ছিল। তার অধীনেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এসএ গেমসের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু হলে কী হবে? তার মেয়াদ বেতন বাড়ানো নিয়ে বেশ নাটক হয়েছিল তখন। যার কারণে তাকেও বিদায় নিতে হয়েছিল

কাজী সালাউদ্দিনের প্রথম মেয়াদে ডিডো দর্দেভিচ বেশ ভুগিয়েছিলেন। তারা জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দিলেও শেষপর্যন্ত নিজেদের আচরণ বিরুদ্ধ স্বভাবের কারণে বেশি দিন টিকতে পারেননি। সেই দুই কোচ এখনো বাংলাদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি। ফুটবল অঙ্গনে কথিত আছে, বাংলাদেশ থেকে যেই বিদেশি কোচ চলে যান তার অন্য দেশে চাকরি হওয়াটা কঠিন। এর বড় অংশ তো বেকার থেকেই যায়।  ডাচ কোচ ডি ক্রুইফ, ডিডো, আর্জেন্টাইন ক্রুসিয়ানি এর বড় উদাহরণ

জোরান দর্দেভিচ তো বাংলাদেশ ছাড়ার পর নিয়মিত বাফুফেতে কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে জাতীয় দলে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। এখন সর্বশেষ তার ছেলে ফোন দিয়ে বাবার কথা বলেছেন। আর ডিডো তো বায়োডাটা পাঠিয়ে রেখেছেন

ডিডো বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি যেই জায়গা থেকে শুরু করেছিলাম। সেই জায়গা থেকে আবারো বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চাই। প্রিমিয়ার লিগের নবাগত বসুন্ধরা কিংসে চেষ্টা করেছিলাম। আমার বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পেয়েছে। কীভাবে বুঝলো জানি না। এখনো স্বপ্ন দেখি, হয়তো একদিন বাংলাদেশের ফুটবলের দায়িত্ব নিবো। নতুন করে শুরু করবো।

দুজনের বেলাতে বাফুফের এমনই নেতিবাচক ধারণা যে তাদের প্রাথমিকভাবে গণ্যই করা হচ্ছে না।  তাই তাদের আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ সেই সম্ভাবনার কথা নাকচ করে বলেছেন, ‘দর্দেভিচের ছেলে ফোন দিচ্ছে। তার বাবা আবারো কোচ হতে চায়। ডিডোরও আবেদন পত্র পাওয়া গেছে। জাতীয় দলের কোচ পদে সবাই আবেদন করতে পারবে। কিন্তু আমরা পুরনো কাউকে আনছি না। নতুন কাউকে কোচ করা হবে।

-কুমিল্লানিউজডেক্স/সম্পাদনা/জেনিফার পলি / ১৬ এপ্রিল ইং

 

দারোগা বাড়ি, উত্তর চর্থা
কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ই-মেইল: bdcomillanews24@gmail.com
নিউজ রুম: +8801976530514

প্রধান সম্পাদকঃ হুমায়ূন কবির রনি
নিউজরুম এডিটরঃ তানভীর খন্দকার দীপু
ই-মেইলঃ editor@comillanews24.com