প্রবাসী সালমাসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে জিম্মি ও চেক নেওয়ার অভিযোগ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কুমিল্লার বিজয়পুরে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে যাওয়ায় জিম্মি করে জমি লিখে নেওয়া, ১১ লাখ টাকার চেক এবং তিনটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সৈয়দা ফিরোজা হক নামে এক নারী। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সৈয়দ মকবুল আহমেদের মেয়ে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ফ্রান্স প্রবাসী সালমা, তার বাড়ির কেয়ারটেকার রায়হান, রায়হানের ফুফা লিটনসহ ১০-১৫ জনকে অভিযুক্ত করেন ফিরোজা হক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফিরোজা হক বলেন, তার বাবা মৃত্যুর আগে তাকে পৈতৃক সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। পরে তার মা-ও ওই সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার খরচ জোগাতে আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

ফিরোজা হকের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। এ সময় তার স্বামী ও বিজয়পুরের ভাঙ্গামুড়া গ্রামের জামাল মিয়া তার সঙ্গে ছিলেন। সেখানে জমির সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে কথাবার্তা চলছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, এর আগে তাঁর তালতো বোন ফ্রান্সপ্রবাসী সালমা তার কাছ থেকে পাঁচ শতক জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়ে নিয়েছেন। এরপর তাঁর বসতবাড়ির জমির ওপরও সালমার নজর পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।
ফিরোজা হক আরও অভিযোগ করেন, সালমার নির্দেশে বাড়ির কেয়ারটেকার রায়হান, তার ফুফা লিটনসহ ১০-১৫ জন তাদের জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় রায়হান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সালমার নামে জমি লিখে দিতে চাপ দেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী ও জামাল মিয়ার গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রাণভয়ে কোনো টাকা না নিয়েই জমি সালমার নামে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন ফিরোজা হক। তার অভিযোগ, এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং জনতা ব্যাংকের ১১ লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে যাওয়া হয়।

ফিরোজা হক বলেন, ঘটনার পর তাদের ঢাকাগামী বাসে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। পরে তার ভাইয়ের ছেলে ঘটনাটি বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সবকিছু জানান। তাঁর উৎসাহ ও আশ্বাসে আবার কুমিল্লায় এসে থানায় অভিযোগ করেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজা হক স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সালমা, রায়হান, লিটনসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আরো পড়ুন

সর্বশেষ খবর

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  
Scroll to Top